বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

বাংলার বৌদ্ধদের ইতিহাস।


নশ্বর সুজয়

  আমরা আজ যে অবস্থায় বুদ্ধের ধর্মকে পেয়েছি তার ইতিহাস বিশাল ও ব্যপক। পৃথিবীর বুকে আর অন্যকোন ধর্ম নেই এমন ইতিহাস বহুল। এ ইতিহাস শুধু উত্ত্বানের নয় , পতনেরও। যুগে যুগে কালে কালে বুদ্ধ ও বৌদ্ধ সভ্যতার ধন আত্মসাৎ করে ধন্য হয়েছে নানা অকৃতজ্ঞ জনেরাই।তার বিনিময়ে দিয়েছি নানা অকৃতজ্ঞার পরিচয়। মাটি নিচেই সেই সাক্ষ্য সুপ্ত হয়ে আছে,  যা হাজার বছর কাল বৌদ্ধদের গৌরবগাথা বহন করে চলছে।
আজ থেকে ২০০ বছর আগের ইতিহাস দেখুন তো বড়ুয়া জাতিটি কোন সংজ্ঞায়  আত্ম পরিচয় বহন করত?
আমরা নিজেদেরকে বৌদ্ধ বৌদ্ধ বলে যে শোল্গান দিচ্ছি তার মূলে কে?
ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধ ও বৌদ্ধধমর্ের হাজারো উত্থান পত্তনের মধে্যও কে বৌদ্ধধর্মকে এ পর্যন্ত বহন করে এনেছে?
সিংহল বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস -"শাসনবংশ"গ্রন্থটি পড়লে বিবেকবাণ মাত্রই একবার উপলব্ধি করতে পারবেন কিভাবে ভিক্ষুরা বৌদ্ধধর্মকে প্রাণের বিনিময়ে রক্ষা করেছিলেন।
খ্রিস্টীয় একাদশ শতক থেকে বৌদ্ধরা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের নিষ্ঠুর অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বীয় প্রাণ ও ধর্ম রক্ষার্থে আরাকান শাসনাধীন চট্টগ্রামে এসে শেষ আশ্রয় গ্রহণ করেছিলো। তার কারণ ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আরাকানের বৌদ্ধ রাজাগণ চট্টগ্রাম শাসন করেছেন।

যদিও বুদ্ধ ব্রাহ্মণ্যবাদী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলে গেছেন। অশোকের শাসনামলে বৌদ্ধ ধর্ম পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। দিকে দিকে শুধু বুদ্ধেরই জয়ধ্বনী হয়েছিল।  তবে কালক্রমে এমন আনুকূল্য বেশিদিন টিকেনি, আর শক্তিশালী গুপ্ত সাম্রাজ্যের আমল থেকে শাসনযন্ত্র ধীরে ধীরে হিন্দুত্বের প্রভাবে ফিরে যায়। পঞ্চম শতাব্দির চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক ও তীর্থযাত্রী ফেক্সিয়ান ভারত সফরের সময় স্থানীয় মহায়ন বৌদ্ধ-তত্ত্বে মৌলিক দুর্বলতা দেখতে পান। সেখানে বুদ্ধাদর্শ বজ্জিত ব্রাম্মণরা ঈশ্বররূপী বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বগণের নাম মিলিয়ে যাগযজ্ঞ দিয়ে প্রচার করত মহাবিশ্বের অগণিত স্তরগুলোতে তারা বসবাসরত, দান যজ্ঞের মাধ্যমে তাদের সান্নিধ্য লাভ
সম্ভব। – ঐ হিন্দু ব্রাম্মণ তত্ত্বগুলো বৌদ্ধ তত্ত্বের এতটাই কাছাকাছি ছিল যে অনেকেই এই দু’ধর্মের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পেতেন না।
প্রথম সহস্রাব্দীর দ্বিতীয় অংশে বৌদ্ধদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা যা জানি তা মূলত এসেছে সপ্তম শতাব্দীর চৈনিক বৌদ্ধ পদব্রাজক হিউয়েন সাং ভ্রমনবৃত্তান্ত থেকে। যদিও কিছু জায়গাতে বৌদ্ধদের সমৃদ্ধ হতে দেখেছেন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি বৌদ্ধবাদকে দেখেছেন জৈন ও ব্রাহ্মণ শক্তির কাছে পরাভূত মৃতপ্রায় সত্তা হিসেবে। বিহারে (প্রাচীন মগধ – বুদ্ধের মৃত্যুস্থান) কয়েকটি বিশেষ বৌদ্ধ স্থানে তিনি মারাত্মকভাবে ক্ষয়িষ্ণু হাতেগোনা কিছু ভক্ত দেখেছেন – ঐদিকে আবার দেখেছেন হিন্দু ও জৈনদের রমরমা অবস্থা। বাংলা, কামরূপ ও আসামেও তিনি অপেক্ষাকৃত স্বল্প সংখ্যক বৌদ্ধ দেখেছেন; কন্যাধাতে কোনো বৌদ্ধ পাননি, আর তামিল, গুজরাট ও রাজস্থানে দেখছেন গুটিকয়েক বৌদ্ধ। চালুক্যদের রাজত্বকালে হিউয়েন সাং লিখেছেন, চালুক্যদের শাসনামলে অন্ধ্র আর পল্লব শাসকদের অনুকুল্যে গড়ে ওঠা অনেক বৌদ্ধ স্তুপ মন্দির পরিত্যাক্ত কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই অঞ্চলগুলো বৈষ্ণব-পূর্ব চালুক্যদের শাসনাধীনে আসে, যারা বৌদ্ধদের প্রতি বৈরী ছিলেন। সাং এর বাংলা ভ্রমণকালে গোঁড়া হিন্দু শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার শাসক। তিনি শশাঙ্ককে একজন “বিষাক্ত গৌড় সাপ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন – যিনি বাংলার বৌদ্ধ স্তুপ -মন্দিরগুলো ধ্বংস করেন আর তার রাজ্যের একেক বৌদ্ধ সন্তদের মাথার জন্যে একশ স্বর্ণমুদ্রা করে পুরস্কার ঘোষণা করেন। হিউয়েন সাং-সহ অনেক বৌদ্ধ সূত্রগুলোতে থানেসরের বৌদ্ধ রাজা রাজ্যবর্ধনের হত্যার জন্যে শশাঙ্ককে দায়ী করা হয়। হিউয়েন সাং লিখেছেন, বোধ গোয়ার বোধি বৃক্ষ কাটা ছাড়াও ওখানকার বৌদ্ধ মূর্তিগুলোকে শিবলিঙ্গ দ্বারা প্রতিস্থাপন করেন।

অন্যদিকে নানা পথ ও মতের সমন্বয়ের চেষ্টায় রত হিন্দুত্বের সর্বদেবতার আলয়ে গৌতম বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে আত্মস্থ করে নেয়া হয়। হিন্দু ধর্মের মধ্যে থেকেই তাই একজন ভক্ত বুদ্ধকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতে পারত। হিন্দুধর্ম তাই ধীরে ধীরে হয়ে উঠলো – “নানা মতের বিশ্বাসীদের জন্যে আস্থা ও সন্তুষ্টির কেন্দ্র।”
অষ্টম শতকের বিখ্যাত হিন্দু দার্শনিক শঙ্কর বুদ্ধকে জনতার শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তিনি নিজেই বৌদ্ধবাদের আদলেই আশ্রম বিধি জারি করেন আর বৌদ্ধ ধর্ম থেকে অনেক দর্শন ধার করেন। বৌদ্ধ সংঘের আদলে শঙ্কর যখন অষ্টম শতকে সন্যাস ও আশ্রম বিধি জারি করেন – ঠিক তখনই বৌদ্ধ বৈরী প্রচারণাও ছিল উত্তুঙ্গে। তাকে বৌদ্ধবাদের কড়া সমালোচক হিসেবে যেমনভাবে অভিনন্দিত করা হয় – ঠিক তেমনিভাবে তাকেই ভারতবর্ষে বৌদ্ধবাদের অবলুপ্তির প্রধান কারিগর হিসেবেও দেখা হয়। একই সময়ে তাকে ছদ্মবেশী বৌদ্ধ হিসেবেও দেখা হয়।

সে সময় নিপীড়িত পলাতক ভিক্ষুদের অধিকাংশ আশ্রয় নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য এক বিহার হিসেবে পরিগণিত হতে থাকে।
চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে হলে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে ত্রয়োদশ শতকে সেনরাজবংশের শাসনামলে (১১০০-১২৬০ খ্রিস্টাব্দে)। এ সময়কালে বাংলায় বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো নানা রাজনৈতিক দুর্যোগের কারণে ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। সেন ও বর্মন রাজারা ছিলেন বৌদ্ধধর্মের প্রতি বিরূপ। তাদের শাসনামলে বৌদ্ধদের উপহাস ও বিদ্রুপ করা হতো এবং ব্রাহ্মণরা বৌদ্ধদেরকে পাষণ্ডী ও নাস্তিক বলে নিন্দা করতো। বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধ মূর্তি সরিয়ে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ‘শংকর বিজয় ও শুন্য পুরাণ’ গ্রন্থে ব্রাহ্মণদের বৌদ্ধ নির্যাতনের বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। শুন্য পুরাণ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ব্রাহ্মণরা বৌদ্ধদের বিষয় সম্পত্তি কেড়ে নিত এবং তাদের সর্বদা অত্যাচার নির্যাতন করত। বৌদ্ধ বিহারগুলো হিন্দু ব্রাহ্মণদের দখলে চলে যায় এবং বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধ হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। এছাড়া অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু দেশ ত্যাগ করে তিব্বত, নেপাল, উড়িষ্যা, কামরূপ, আরাকান ইত্যাদি অঞ্চলের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। এ সমস্ত কারণে বৌদ্ধধর্ম ত্রয়োদশ শতকের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বলতে গেলে বাংলায় তখন সেনবংশের নিয়ন্ত্রণাধীন হিন্দু রাজত্বের রমরমা অবস্থা।
লক্ষণ সেনের রাজত্বকালে তুর্কী বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজী বাংলা আক্রমণ করেন। এ আক্রমণে বাংলায় অবশিষ্ট বৌদ্ধ সভ্যতার যা ছিল তাও সমূলে উৎপাটন হয়ে গেল। ভাগ্যান্বেষণে আগত তুর্কীবীর বখতিয়ার বৌদ্ধবিহার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মনে করেছিলেন ব্রাহ্মণদের দুর্গ। এ ভ্রান্ত ধারণায় বাংলার বৌদ্ধবিহার, সংঘারাম ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বখতিয়ারের তরবারি ও অশ্বক্ষুরের আঘাতে একের পর এক চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। বিহারভিত্তিক বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নালন্দা, বিক্রমশীলা ও ওদন্তপুরী মহাবিহারগুলো একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল, নিহত হল অধিকাংশ বৌদ্ধ ভিক্ষু। বিহারে রক্ষিত ধন-সম্পদ লুট করা হল। আগুনে পুড়ে সবকিছুই ছাই হয়ে যাবার পর বখতিয়ার খিলজী জানতে পারলেন এগুলো ব্রাহ্মণদের দুর্গ নয়, এগুলো সুসমৃদ্ধ বৌদ্ধবিহার ও বিশ্ববিদ্যালয়। এভাবে তুর্কী সৈন্যদের আক্রমণে ধ্বংস হয়ে গেল বাংলার হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপনা।

এ প্রসঙ্গে নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন ণ্ডযাঁরা তুর্কী বীরদের অস্ত্রাঘাত হতে কোনরকমে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হলেন তাঁরা অতিকষ্টে হাতের কাছে পাওয়া কয়েকটি পুথি, ছোট ছোট মূর্তি প্রতিমা এবং সূত্রোৎকীর্ণ মাটি বা শিলাফলক নিয়ে পালিয়ে গেলেন তিব্বত, নেপাল, উড়িষ্যা, কামরূপ, আরাকান, পেঁগু, পগান বা আরও দূরদেশে। একই প্রসঙ্গে নলিনীনাথ দাশগুপ্ত লিখেছেনণ্ডমগধের বিহারগুলোতে তুর্কীদের এরূপ জঘন্যতম অত্যাচার কাহিনী শুনে বাংলার সোমপুর, জগদ্দল প্রভৃতি বিহারবাসী শ্রমণগণ অত্যাবশ্যকীয় কিছু পুথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আত্মরক্ষার্থে যে যেদিকে পারে পালিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন ণ্ড দ্বাদশ শতাব্দীর শেষ লগ্নে তুর্কী মুসলমানদের আক্রমণে প্রথমে মগধ ও পরে ভারতের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত বাংলার বৌদ্ধবিহার ও সংঘরামগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। একদিকে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের বৌদ্ধধর্ম গ্রাস করার ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে তুর্কী মুসলমানদের আক্রমণে প্রতিকূল শক্তির মোকাবেলায় বিধ্বস্ত বৌদ্ধধর্ম বাংলা থেকে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে গেল।
বাংলার সুলতানী আমলে ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ কর্তৃক চট্টগ্রাম বিজয় এবং চট্টগ্রামে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। তখন থেকে ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে জামাল খাঁ পন্নীর সময়কাল চট্টগ্রামে মুসলিম শাসন বলবৎ ছিল। সুলতানী আমলে চট্টগ্রাম মুসলিম অধিকারে চলে আসলে চট্টগ্রামেও বৌদ্ধরা নির্যাতিত হতে থাকে। হয়তো এ সময়ে চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহারও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি এবং এ সময়েই চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার থেকে ভিক্ষুরা দলে দলে তিব্বত, নেপালের দিকে ছুটে যেতে থাকে। পরবর্তীতে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে মোগলরা আরাকান রাজকে পরাজিত করে চট্টগ্রাম দখল করে নেয়। চট্টগ্রাম দখলের এ ভয়াবহ যুদ্ধে চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার সমূলে ধ্বংস হয়ে যায় বলে ধারণা করা যায়। এ যুদ্ধে চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার ধ্বংস, ধর্মগ্রন্থ বিনষ্ট, বৌদ্ধ পণ্ডিতগণ নিহত হন বা পলায়ন করেন। চট্টগ্রাম থেকে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা (মগরা) পালিয়ে আরাকানে আশ্রয় নেয়। অবশিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপর নেমে আসে অমানিশার যুগ। মোগল সম্রাট বা শাসকরা এদেশে বৌদ্ধধর্ম নামে কোন ধর্ম ছিল, মনে হয় তা জানতেনই না। কারণ মোগল শাসনামলের কোন পুথিপত্র বা গ্রন্থে বৌদ্ধধর্ম বা বৌদ্ধদের কোন কথা পাওয়া যায় না। সত্যিকার অর্থে তখন বাংলায় বৌদ্ধদের কোন অস্তিত্বই ছিল না।
শিহাব উদ্দিন তালিশ বিরচিত ‘ফতিয়া-ই-ইব্রিয়া’ গ্রন্থে, দেয়াঙ পাহাড়স্থ প্রাচীন চট্টগ্রাম বন্দর, দেয়াঙ কারাগার, বদরশাহের দরগাহসহ মোগল-আরাকানীদের ভয়াবহ যুদ্ধের বর্ণনা থাকলেও পণ্ডিতবিহার সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। তাতে ধারণা করা হয় যে, পণ্ডিতবিহারের সেই জৌলুস তখন ছিল না।

চট্টগ্রামের কৃতীসন্তান পণ্ডিত শরৎচন্দ্র দাস ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে কয়েকবার তিব্বতে গিয়ে প্রাচীন পুঁথিপত্র এনে ব্যাপক গবেষণা করেও চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহারের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারেন নি। তবে তিনি চট্টগ্রাম শহরের দেবপাহাড় এলাকায় এর অবস্থান ছিল বলে মনে করেন।

 চলবে..-...
* কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি লেখাটিতে যেসকল ইতিহাসবিদগণের শ্রমের সহযোগিতা নিয়েছি।

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

কালামের হাতে হেসেছিলেন বুদ্ধ।

১১ মে, ১৯৯৮৷ বাতাসে আপেক্ষিক আদ্রতা সেদিন একটু বেশীই ছিল বোধহয়৷ দেশের অন্তরেও জমছিল উদ্বেগ৷  ১৯৭৪-এর পর সেই আবার দেশের পরমাণু শক্তির পরীক্ষা হবে৷ শুধু তো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি নয়, ছিল রাজনৈতিক ঘূর্ণিপাকও৷ সে সব সামলে নিয়েই সেবার দেশের শক্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা গিয়েছিল৷ কিন্তু সর্বক্ষণ চলছে আমেরিকান উপগ্রহের নজরদারি৷ তা এড়িয়েই বিশ্বের কাছে দেশীয় পারমাণবিক শক্তির বার্তা দেওয়ার দায়িত্ব পড়েছিল যাঁর উপর, তিনি ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম৷ বুদ্ধ পূর্ণিমার রাত ছিল সেদিন৷ সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে, আমেরিকার নজরদারি এড়িয়ে, পরমাণু পরীক্ষায়  সাফল্য পৌঁছেছিলেন ডঃ কালাম৷১৯৯২ থেকে ৯৯ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিজ্ঞান উপদেষ্টার পদে নিযুক্ত ছিলেন ডঃ কালাম৷  তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ১৯৯৬ সালেই  পরমাণু শক্তির পরীক্ষার কথা ভেবেছিলেন৷ কিন্তু রাজনৈতির চাপের কাছে নতিস্বীকার করেন৷ ১৯৯৮-এ আর পিছু ফিরে তাকাননি৷ প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে সবুজ সংকেত গিয়েছিল ডঃ কালামের কাছে৷ পোখরান-২ পরমাণু পরীক্ষার সুপারভাইজারের দায়িত্ব পড়েছিল তাঁর উপর৷ সফলভাবে পাঁচটি পরমাণু বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল৷ তারমধ্যে চারটি ছিল ফিসন বোম, একটিই ফিউশন বোম৷ মোট ৫৮ জন ইঞ্জিনিয়ারকে বেছে নেওয়া হয়েছিল সে কাজের জন্য৷
গোপনীয়তা ছিল চরম মাত্রায়৷ এল সাফল্য৷ পরমাণু শক্তি হিসেবে সেদিন নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছিল ভারত৷ আর পুরো প্রক্রিয়াটির নেপথ্য নায়ক ছিলেন ডঃ কালাম৷ প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সেদিন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, আমেরিকার উপগ্রহের নজরদারি এড়ানো৷ ডঃ কালামের পরিকল্পনামতোই ভারতীয় বিজ্ঞানীরা সময়ের হেরফেরে বোকা বানাতে পেরেছিল উপগ্রহটিকে৷ সফল হয়েছিল দেশের পরমাণু পরীক্ষা৷ ১৯৯৮-এর এই পরীক্ষার সাফল্যকে সিআইএ-র ( সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্সি এজেন্সি, আমেরিকা) সবথেকে ব্যর্থতা বলেও ধরা হয়৷ ভাবা অ্যাটোমিক রিসার্চ সেন্টারের তরফ থেকে ডঃ কালামকে একটি স্মারক সম্মান দেওয়া হয়, যেখানে বুদ্ধ মূর্তির নীচে লিখে দেওয়া হয়েছিল, ‘দ্য বুদ্ধ হ্যাজ স্মাইলড’৷ বস্তুত গোটা দেশই সেদিন স্বস্তির হাসি হেসেছিল৷

শনিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৭

মানবের পরাজয়ের কারণ

মানব জীবনে পরাজয়ের কারণ কি?
=========================

ভগবান গৌতম বুদ্ধ দায়কদের বলেছেন:-

০১| যে ব্যক্তি অজ্ঞানী ও অধার্মিক তাঁর পরাজয় হয়৷

০২| যে ব্যক্তি অসৎ ব্যক্তিকে প্রিয় ও  সৎ ব্যক্তিকে অপ্রিয়  মনে করে এবং মিথ্যাদৃষ্টির আশ্রয় গ্রহণ করে তাঁর পরাজয় হয়৷

০৩| যে ব্যক্তি অলস, নিদ্রালু, উদ্যমহীন ও ক্রোধী এবং বাজে গল্পে সময় নষ্ট করে তাঁর পরাজয় হয়৷

০৪| যে ব্যক্তি সক্ষম হয়েও মাতাপিতার ভরণ পোষন করেনা সে ব্যক্তির পরাজয় হয়৷

০৫| যে ব্যক্তি নিষ্পাপ ভান্তে, শ্রামণ কিংবা যাচককে মিথ্যা কথায় প্রবঞ্চনা করে সে ব্যক্তির পরাজয় হয়৷

০৬| যে ব্যক্তি প্রভূত বিষয় সম্পত্তির অধিকারী হয়েও অন্যেকে দান করেনা সে ব্যক্তির পরাজয় হয়৷

০৭| যে ব্যক্তি জাতি, ধন, গোত্র, বিষয়ে অহংঙ্কারী এবং গরীব আত্মীয়দের ঘৃনা করে সে ব্যক্তি পরাজয় হয়৷

০৮| যে ব্যক্তি পরস্ত্রীতে আসক্ত, সুরাপায়ী ও জুয়ারি যার ফলে অর্জিত ধন সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে সে ব্যক্তির পরাজয় হয়৷

০৯| যে স্বীয় স্ত্রীতে অসন্তুুষ্ট এবং গণিকা ও পরদ্বারে আসক্ত সে ব্যক্তি পরাজয় হয়৷

১০| যে ব্যক্তি বৃদ্ধ বয়সে তরুনী ভার্যা বিবাহ করে, তার অক্ষমতা বিধায় তাঁর স্ত্রী বা ভার্যা ব্যভিচারে রত হয় সে ব্যক্তির পরাজয় হয়৷

১১| যে ব্যক্তি সংসার পরিচালনার ভার প্রমত্ত ও উৎশৃংঙ্খল স্ত্রী বা পুরুষের উপর অর্পণ করে সে ব্যক্তির পরাজয় হয়৷

১২| যে ব্যক্তি সামান্য সম্পদের অধিকারী রাজত্ব লাভের দূরাশা পোষণ করে সে ব্যক্তির পরাজয় হয়৷

সত্যকে জানুন, মিথ্যাকে দূর করুন৷ পড়তে উৎসাহিত হোন, বেশী বেশী লাইক,কমেন্ট, শেয়ার করে অন্যেকে পড়ার সুযোগ করে দিন এতে  আপনার এবং সবার পূণ্যে ও মঙ্গল হবে৷৷

ফ্যাসিবাদ।

 ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ হচ্ছে একটা চরমপন্থী, জাতীয়তাবাদী, কর্তৃত্বপরায়ন রাজনৈতিক মতাদর্শ। এই দর্শন সবকিছুকেই রাষ্ট্রের নামে নিজেদের অধীন বলে...