০১
লিখেছেন – বাবলু মুৎসুদ্দী
সব ধর্মই কার্য – কারনেই হয় অকারনে কোন কিছু হয় না এবং হওয়া সম্ভবও নয়। কার্য – কারনে মন বা ধর্ম উদয় হয় (Genesis) কিছুক্ষণ স্থায়ী হয়ে (Static development )আরেক চিত্ত (আগাম নতুন ধর্ম) উৎপন্ন হওয়ার কারন রেখে বিলীন (Desolution)হয়ে যায় । মন বা ধর্ম (চিত্ত) উৎপন্ন হয়ে বিলীন হতে যে সময় লাগে তাকে ০১ (এক) চিত্তক্ষণ (হাতে দুই আঙ্গুলে তুরি ফোঁটাতে সে সময়) বলে। আর ১৭ চিত্তক্ষণে ১ চিত্তবীথি (One Thought Process) হয় ।
বুদ্ধ বলেছেন প্রতিটি চিত্ত,(Psychic Life) ১৭ চিত্তক্ষণ বা এক চিত্তবীথি স্থায়ী বা ঠিকে থাকে। এবং নতুন কোন চিত্ত বা কর্ম সৃষ্টি করে বিলীন হয়ে যায় । বিজ্ঞানী আর্লবাট আনস্টাইন E=mc2 সূত্রানুসারে দেখতে পান পদার্থ শক্তিতে আর শক্তি পদার্থে রূপান্তুর হয় অতএব পদার্থ অভিনশ্বর ।
আর বিজ্ঞানী মহলে হিংসা বিদ্বেষের ছড়াছড়ি। সবাই তো আর আনস্টাইনের মত ভাবতে পারে নি । কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী Fred Holly পদার্থ , পরমাণু, শক্তি অভিনশ্বতার বিরোধিতা করে বলেন পদার্থ, পরমাণু, শক্তি নশ্বর, তিনি বলেন পরমাণু তার নিউক্লিয়াসের বহিঃস্থ ইলেকট্রন হারায় এবং তৎক্ষণাত বায়ু বা অন্য কোন পদার্থ হতে ইলেক্ট্রন গ্রহন করে তার হারানো ইলেক্ট্রন লাভ করে। পরমাণু নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে নতুন নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং নতুন পরমাণু সৃষ্টি হয় । এভাবে পদার্থের জীবন প্রক্রিয়া চলতে থাকে । এক সময় ইলেক্ট্রন ও নিউক্লিয়াস (প্রোটন ও নিউট্রন) দূর্বল থেকে দূর্বলতর হয়ে বন্ধন ক্ষমতা নষ্ট হলে পদার্থ ভেঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যায় ।
ব্যাপারটা অনেক হাস্যকর ।
একমাত্র বিজ্ঞানী আনস্টাইন মনে হয় (সঠিক কিনা জানি না) গৌতম বুদ্ধের (Good Teacher/ First Enlighten Man ) সাথে একমত হতে পেরেছেন ।
বুদ্ধ সেই সুপ্রাচীন কালে্ কী সুন্দর নিখুত ব্যাখা প্রদান করেছেন তা আমি ভেবে বার বার অবাক হই। বুদ্ধ বলছেন পদার্থের মধ্যে এমন গুন বা ধর্ম আছে যার দ্বারা তাদের মধ্যে সম্মিলনের বা বন্ধন ক্ষমতার ফলে অন্য পদার্থ সৃষ্টি হয় যা আধুনিক রসায়ন স্বীকার করে । বুদ্ধ বলেছেন চারটি ভুত রূপই পদার্থ যেমন মাটি, পানি, বায়ু, তেজ যেমন - মাটির কঠিনতা ও কোমলতা স্বভাব, পানির নিবদ্ধ ও নিঃসরন স্বভাব, বায়ুর সংকোচন ও প্রসারণ স্বভাব, তেজের (তাপমাত্রা) ঠান্ডা এবং গরম স্বভাব অর্থাৎ ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রনে অনুতে অনুতে আনবিক বন্ধন ক্ষমতার মাধ্যমে পুঃণ পুঃণ নতুন শক্তিতে রূপান্তর হয়ে থাকে । আবার প্রত্যেকটি ভূত রূপের মধ্যে উক্ত চারটি গুনই থাকে । যেমন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়ে পানি তৈরি করে আবার পানিতেই উক্ত মৌলগুলোই পাওয়া যায় এবং সেই পানি নতুন কোন পদার্থেরে সাথে মিশ্রিত হলে যে ফলাফল পাওয়া যাবে সেখানে একই মৌল বিদ্যমান থাকবে ।
তার মানে, ক্ষয় নাই ওরে…. তোর ক্ষয় নাই।
- ভূলত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন