রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বুদ্ধ ধর্মে অনুশীলনের গুরুত্ব।


সমাজে অনেকে নিজেকে পন্ডিত বলে মনে করেন। তাঁরা বহু শাস্ত্র অধ্যয়ন করে বা গবেষণা করে তাঁদের পন্ডিত বলে ধারণা আসতে পারে। কিন্তু বুদ্ধের সেই আসল গবেষণায় পৌঁছতে হলে বা আসল পন্ডিত হতে হলে তাঁকে অবশ্যই ব্যবহারিক জ্ঞান সহ শাস্ত্র জ্ঞানে পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই তিনি পন্ডিত হতে পারবেন। বিদর্শন ভাবনা সঠিক আচার্যের মাধ্যমে শুদ্ধ আচরণ করলে তাঁর প্রতিক্রিয়া উৎপন্ন হবে। প্রতিক্রিয়া উৎপন্ন হরে সংস্কার নিরোধ হবে। সংস্কার নিরোধ হলে নামরূপ পরিচ্ছদ জ্ঞান ও উদয় ব্যয় জ্ঞান ইত্যাদি ষোল প্রকার জ্ঞান উৎপন্ন সহ মার্গ পথে পদার্পণ করবেন। এ বিষয়ে পরিপূণূ জ্ঞান অর্থাৎ বিদর্শন ভাবনা শুদ্ধ আচরনের মাধ্যমে মার্গ পথে বিচরণ না করে অন্য বিদর্শনাচার্যের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করলে উপবাদ অন্তরায় হতে পারে। তাই বিদর্শন জ্ঞানের নীতি সোপান তথা নির্বাণ পথের জ্ঞান হয় একমাত্র বিদর্শন ভাবনা আচরণের মাধ্যমে, শাস্ত্র গবেষণার নয়। এ প্রসংঙ্গে এখানে একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করা যাক-
শ্রাবস্তীর দুই বন্ধু তথাগত বুদ্ধের উপদেশ শুনে ভিক্ষুব্রত গ্রহণ করেন। পাঁচ বৎসরকাল গুরুর নিকট অবস্থান করে বিবিধ কর্তব্য বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে একজন উপদিষ্ট শিক্ষায় সাধনায় সিদ্ধি লাভ করলেন। অপরজন ত্রিপিটক অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা কাজে নিযুক্ত রইলেন। চরম বিমুক্তি তাঁর অধিগত হল না বুদ্ধ এ বিষয়ে অবগত হয়ে পান্ডিত্য অপেক্ষা আচরনই বিশেষ ফলপ্রদ বলে নিম্মের গাথাদ্বয় আবৃত্তি করলেন-
“বাহুম্পি সে সহিতং ভাসমানো ন তক্করো হোতি নরো পমত্তো,
গোপো বা গাবো গমাং পায়েসং ন ভাগবা সামঞ্ঞস্স হোতি।”
-বহু শাস্ত্র জ্ঞান যার বহু অধ্যয়ন, অথচ সে শাস্ত্র মতে চলে না কখন।
শ্রামণ্য ফলের ভাগী হয় না সেজন, গোপ (রাখাল) যথা পর গাভী লাভেনা কখন।”

অপ্পম্পিচে সহিতং ভাসমানো, ধম্মস্স হোতি অনুধম্মচারি,
রাগঞ্চ দোসঞ্চ পবায মোহং সম্মপ্পজানো সুবিমুত্ত চিত্তো,
অনুপাদিসনো ইধ বা হুরং বা, স ভাগবা সামঞ্ঞস্স হোতি।
-অল্প শাস্ত্র জানে কিন্তু শাস্ত্রের মতন, পালে ধর্ম রাগ, দ্বেষ মোহ হীন জন।
সম্পজ্ঞানী মুক্তচিত্ত উপাদান ত্যাগী, উভলোক হন তিনি শ্রামণের ভাগী।
যে প্রমত্ত ব্যক্তি ধর্মচার্যের নিকট বহুল পরিমাণ বুদ্ধের ধর্ম অধ্যয়ন করেও যথাযথ আচরণে বিরত থাকেন, সে ব্যক্তি রাখালের সহিত তুলনীয় হন। অর্থাৎ রাখাল যখন সারাদিন গরুর সেবা যত্ন করেও গব্যরসের অধিকারী হতে সমর্থ হয় না, সেরূপ বুদ্ধ বচন প্রচুর আবৃত্তি করলেও সেই ধর্মের রস পানের অধিকারী হতে পারে না। অপর পক্ষে অপ্রমত্তভাবে যিনি অল্প পরিমাণেও বুদ্ধের বাণী অধ্যয়ন করেন, তারা সুন্দর রূপে আচরণ করেন, নব লোকোত্তর ধর্মের অনুকূল ধর্মার্থ অবগত হয়ে কাম প্রবৃত্তি দমন করেন এবং মনে প্রাণে মুক্তি অভিসরী হন, তিনিই বিদর্শন ভাবনা বলে কাম-দ্বেষ-মোহকে সর্বতোভাবে পরাভূত করে মুক্তি পারের সন্ধান লাভ করেন এবং কাম, দৃষ্টি, শীলব্রত ও আত্মবাদ ভেদের চারিটি উপাদান সমূলে উৎপাদিত করে অরহত্ব ফল লাভের পর ভববন্ধন মুক্ত হন। তখন তিনি ইহাকল ও পরকালের শ্রামণের ভাগী হতে পারেন। ধর্মের সত্যিকারের দায়ক নির্বাণ লাভী এবং ধর্মের ধারক ও বাহক হতে পারেন।
ভগবান বুদ্ধ অনেক গবেষণা করে নির্বাণ লাভের জন্য একটি পথই আবিষ্কার করে গেছেন আমাদের জন্য দুটি পথ নয়। আর সে পথ হলো আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথে আচরণ এবং এ পথে আচরণে মুক্তি লাভ সম্ভব। অন্যভাবে আচরণ বৃথা হবে, বুদ্ধের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যায় বা উপদেশে শুধু বিমুক্তিই উদ্দেশ্যেই ভাবিত ও দেশিত হয়েছে। তাই ইহাকে মহা সমুদ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ মহাসমুদ্রের জল যেখান থেকেই নেওয়া হোক না কেন সবখানেই লোনা। তদ্রুপ বুদ্ধের ধর্ম দর্শন সবখানেই বিমুক্তি রসে পরিপূর্ণ। বুদ্ধ বলেছেন-
মগ্গষ্ঠাঙ্গিকো সটটেঠা, সচ্চানং চতুরাপদা,
বিরাগো সেটঠ ধর্মানং দ্বি পদানঞ্চ চক্ষুমা।
এসোব মগগো নত্থঞ্ঞ, দস্সনস্স বিসুদ্ধিযা
এতঞহি তুমেহ পটিপজ্জথ মারসসেতং পমোহনং।
মার্গমাঝে অষ্টাঙ্গিক, সত্য মাঝে সত্য চতুষ্টয়,
ধর্মেতে বিরাগ শ্রেষ্ট চক্ষুমান মানবে নিশ্চয়।
এ মার্গ বিনা অন্য কোন মার্গ নাই,
দর্শন শুদ্ধির তবে করতে যাচাই।
তাই এ আষ্টমার্গ সবে অনুস্মর,
এ মার্গে মার রাজ্যে সম্মোহিতে পার।

একবার বুদ্ধ ভগবান ভিক্ষু সংঘে কিছুদিন জনপদ ভ্রমণ করে পুররায় জেতবনে ফিরে এসেছেন। একদিন বুদ্ধের সঙ্গে ভ্রমণকারী সে ভিক্ষুগণ অতিথি শালায় গিয়ে তাঁদের ভ্রমণ পথের সুগমতা ও দুর্গমতা সম্বন্ধে আলোচনা করছেন। বুদ্ধ তাঁদের আলোচনা শুনে লৌকিক পথ সম্বন্ধে চিন্তা না করে আধ্যাত্মিক সাধনায় রত হয়ে আর্য মার্গের সন্ধান করতে উপদেশ দিলেন। মুক্তি লাভের জন্য যদিও অনেকে মনে করেন বিবিধ প্রকার পথের নির্দেশ আছে। আসলেই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই একমাত্র পথ।

চক্রবালের বা একত্রিশ লোকভূমির প্রাণীগণ সর্বদা মুক্তি লাভের জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করে, অথচ সমস্ত কাজ মুক্তির নয়। কিছু পাপ, কিছু পুণ্য ও কিছু পরমার্থ কাজ। তন্মধ্যে পাপ কাজ ও পুণ্য কাজ বিপাক সৃষ্টি করে। কিন্তু পরমার্থ কাজের বিপাক সৃষ্টি হয় না। অধিকন্তু পরমার্থ কাজের দ্বারা জমাকৃত বিপাক কায়দ্বারে, বাক্যদ্বারে ও মনদ্বারে নিরোধ হয়। এটাই হলো বিদর্শন ভাবনা।

পাপ কাজের কর্মপথ দশটি। যেমন হত্যা, চুরি, মিথ্যা বাক্য, পিশুন বাক্য, (ভেদ বাক্য) পরুষ (কর্কশ) বাক্য, সম্প্রলাপ (অর্থহীন) বাক্য, অভিদ্যা (লোভ), ব্যাপাদ (দ্বেষ) ও ভ্রান্ত ধারণা (মিথ্যা দৃষ্টি)। এ সমস্ত কর্মপথে কাজ করলে জন্মে জন্মে চারি অপায় গমন, যেমন-তির্যক , প্রেত, অসুর ও নিরয় কুলে উৎপন্ন হয়ে অসীম দুঃখ ভোগ করতে হয়। আবার পুণ্য কাজের কর্মপথ দশটি। যেমন- দান, শীল, ভাবনা (শমথ), সেবা, সম্মান, পুণ্যদান, পুণ্যদানানুমোদন, ধর্মশ্রবণ, ধর্মদেশনা ও দৃষ্টি ঋজু কর্ম (সত্য পথ আচরণ) এ সমস্ত কর্ম পথে কাজ করলে মৃত্যুর পর সুগতি লাভ হয়। যেমন মানুষ স্বর্গ ও ব্রহ্মলোকে জন্ম প্রতিসন্ধি গ্রহণ করে সুখ লাভ করে। পাপ কর্মর্জিত দুঃখ এবং পুণ্যকর্মার্জিত দুঃখ উভয়ই অস্থায়ী। এ গুলো ভোগের পর পুনঃ প্রতিসন্ধি বা জন্ম নিতে হয়। আর জন্ম দুঃখ বলে বুদ্ধ আখ্যায়িত করেছেন। ২৫৯৭ বৎসরের মধ্যে একটি মাত্র জ্ঞানী বা ‍বুদ্ধ যিনি জীব জগতের এ দুঃখ অবলোকন করে তাহা নিরোধের জন্য মার্গ বা পথ আবিষ্কার করেছেন। তাহাই বিদর্শন ভাবনা। সে বিদর্শন ভাবনা আচরণ ক্ষেত্রে অনেকের ধারণা শমথ ভাবনা আগে করতে হবে, না হয়তো বিদর্শন ভাবনা লাভ হবে না। আবার অনেকে শমথ ভাবনা করে সরাসরি নির্বাণ লাভ হবে বলে মনে করেন, আবার অনেকে শমথ বা বিদর্শন যে কোন ভাবনা করলে নির্বাণ লাভ হবে বলে মনে করেন। এখন সে আলোচনায় আসা যাক-
“চানমার য়ৈকত ভাবনা কেন্দ্র” ইয়াঙ্গুন, মায়ানমার-এর অধ্যক্ষ সেয়াদ উ জনকাভিংসো বর্ণনা করেছেন, একবার বুদ্ধ উত্তরীয় নামক রুগ্ন ভিক্ষুকে বলেছেন “আরম্ভ যদি বিশুদ্ধ হয় হবে সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে নির্বাণ সাক্ষাৎ হবে।”

তাই বুদ্ধের এ একটি বাক্য থেকে বুঝা যায় বিদর্শন ভাবনার যদি মুক্তির একমাত্র পথ হয় তাহলে আরম্ভ শমথ ভাবনা দিয়ে করলে বিশুদ্ধভাবে আরম্ভ হলো কি? মুক্তি মার্গ বা নির্বাণ লাভ হবে কি? আবার যারা শমথ ভাবনার মাধ্যমে শুরু করে মুক্তি পেতে চান, তাঁদের জন্যও সে সময় অতীত হয়ে গেছে। অর্থাৎ পটিসম্ভিদা মার্গসহ অর্হত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বুদ্ধের পরিনির্বাণের পর এক হাজার বৎসর পার হয়ে ২৫৫২ বৎসরে পৌঁছেছে। কাজের বুদ্ধের বিভিন্ন সময়ের উক্তি থেকে জানা যায় সরাসরি শমথ ভাবনা করেও নির্বাণ লাভ সম্ভব নয় এবং প্রথমে শমথ দিয়ে আরম্ভ করে পুনঃ বিদর্শনে আসা দুরুহ ব্যাপার। সে আলোচনার পরে আসা যাবে।

কুমার সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগ করার পর মহর্ষি ভার্গব- এর আশ্রমে উপস্থিত হলেন। বিস্তীর্ণ বনরাজি, বিভিন্ন গাছগাছড়ার ভরা এ আশ্রম। সুনিবিড় এ একান্ত তপোবনে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন রকম শারীরিক অবস্থায় বেশ কয়েকজন অসাধারণ কষ্টে কৃচ্ছ সাধনায় ব্রত। তিনি ঘুরে ফিরে দেখলেন, কয়েক রাত অবস্থান করলেন এবং বুঝতে পারলেন এ সমস্ত আচরণে মনুষ্যে জন্মে বা স্বর্গে জন্ম গ্রহণ করা যায়। কিন্তু পুনরায় অপায়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়নি। কাজেই ইহা আচরণে দুঃখ মুক্তি স্থায়ীভাবে হচ্ছে না জেনে ঐ আশ্রম ত্যাগ করলেন। ঘুরে ঘুরে তিনি ঋষি আরাড় কালামের আশ্রমে উপস্থিত হলেন। আশ্রম প্রধানের সাথে আলোচনা করে জানতে চাইলেন জন্ম, জরা, ব্যাধি, মৃত্যু, শোক, সংক্লেশ ইত্যাদি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার স্থায়ী কোন পথ আছে কিনা। ঋষি তাঁকে সমস্ত আশ্রম ঘুরে ঘুরে দেখালেন, বুঝালেন এবং আচরণ করতে বললেন। কুমার সিদ্ধার্থ এখানে আচরণে প্রবৃত্ত হয়ে সব চাইতে উন্নততর ব্রহ্মলোকের আকিঞ্চানায়তন ধ্যান লাভ করলেন। এ আকিঞ্চানায়তন থেকে চ্যুত হয়ে পুনরায় কর্মপ্রবাহে প্রতিসন্ধি হবে তাই তিনি তাঁর এ লদ্ধ ধর্ম জ্ঞানে তৃপ্তি লাভ করতে পারলেন না। কেননা ইহা জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর অতীত কোন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে না মানুষকে। তিনি বুঝতে পারলেন এ ধর্ম নির্বেদের অভিমুখে, বিরাগের অভিমুখে, নিরোধের অভিমুখে, উপশমের অভিমুখে, অভিজ্ঞাতার অভিমুখে, সম্বোধির অভিমুখে, নির্বাণের অভিমুখে সংবর্তিত হয় না। তাই তিনি অনাসক্তভাবে আশ্রম থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। ক্রমে তিনি কোশল রাজ্যের রাজধানী শ্রাবস্তীতে এসে পড়লেন। সেখানে ঋষি রামপুত্র রুদ্রকের কথা জানতে পেরে তাঁর আশ্রমে উপস্থিত হলেন এ আশ্রমে যা কিছু কর্মকান্ড আছে সবই তিনি ধীরে ধীরে আয়ত্ব করে নিলেন। তারপর ঋষির নিকট জিজ্ঞাসা করেলেন আর আছে কিনা। ঋষি বললেন এর অধিক কিছু নেই। এখানে সব চাইতে বেশী কিছু লাভ হল একত্রিশ লোকভূমির সর্বোপরি স্থান, আনেঞ্জা সংস্কার, ৮৪ হাজার কল্পকাল সুখ ভোগকারী আরূপ ব্রহ্মলোকের “নৈবসংজ্ঞানাসজ্ঞায়তন”। তার উপরে অধিক সুখ ভোখকারী অন্যা কোন স্থান চক্রবালে আর নেই। অথচ সে অরূপব্রহ্মলোক থেকে চ্যুত হয়ে আবরও অপায়ে প্রতিসন্ধি যোগ আছে। এখন রাজ কুমার সিদ্ধার্থ জানতে পারলেন যে, এখানে (নৈবসংজ্ঞানাসজ্ঞায়তন) ও উপধি নির্মূল হয় না, তা যতই সুক্ষ্ণ হোক না কেন উপধি থাকলেই তা জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর অধীন হবে। সুতরাং এ ধর্ম নির্বেদের অভিমুখে, বিরাগের অভিমুখে, নিরোধের অভিমুখে, উপশমের অভিমুখে, অভিজ্ঞাতার অভিমুখে, সম্বোধির অভিমুখে, নির্বাণের অভিমুখে সংবর্তিত হয় না। কাজেই এখানে থেকেই কোন লাভ নেই। তাই তিনি রামপুত্র রুদ্রকের আশ্রম থেকে বেড়িয়ে পড়লেন নির্বাণ লাভের পথ অম্বেষণে।

রাজকুমার সিদ্ধার্থ শমথ ভাবনা আচরণ করে বুঝতে পারলেন যে, এ সমস্ত আচরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখলে জন্মতা বিফলে যাবে। কৃচ্ছ সাধন ও শমথ ভাবনা আচরণে নিজের শরীর এবং সময় নষ্ট হয়ে গেল অনুভব করে আসল দুঃখ মুক্তির পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে লাগলেন। এখানে শমথ ভাবনা কি এবং তার আচরণটা কি রকম তা একটু আলোচনা করা যাক।
শমথ ভাবনা চল্লিশ প্রকার, যথা, দশ প্রকার কৃৎস্ন, দশ অশুভ, দশ অনুস্মৃতি, চারি অপ্রমেয়, এক সংজ্ঞা, এক ব্যবস্থান এবং চারি অরূপ ধ্যান স্তর।

দশ কৃৎস্ন- পৃথিবী কৃৎস্ন, আপ কৃৎস্ন, তেজ কৃৎস্ন, বায়ু কৃৎস্ন, নীল কৃৎস্ন, পীত কৃৎস্ন, লোহিত কৃৎস্ন, অবদাত কৃৎস্ন, আকাশ কৃৎস্নও আলোক কৃৎস্ন।
দশ অশুভ- উদ্ধস্ফীত, বিনীলক, পূঁজপূর্ণ, ছিদ্রীকৃত, বিখাদিত, বিক্ষিপ্ত, কর্তিত-বিক্ষিপ্ত, রক্তাক্ত, কীটপূর্ণ ও অস্তিপূঞ্জ।
দশ অনুস্মৃতি- বৃদ্ধানুস্মৃতি, ধর্ম্মানুস্মৃতি, সংঘানুস্মৃতি, শীলানুস্মৃতি, ত্যাগানুস্মৃতি, দেবতানুস্মৃতি, উপশমানুস্মৃতি, মরনানুস্মৃতি, কায়গতানুস্মৃতি ও আনাপান স্মৃতি (শ্বাস প্রশ্বাস)।
চারি অপ্রমেয়- মৈত্রী, করুণা, মুদিতাও উপেক্ষা।
এক সংজ্ঞা- ভক্ষ্য দ্রব্যের ঘৃণাকর পরিণতি সম্বন্ধে জ্ঞান।
এক ব্যবস্থান- দেহস্থ কঠিন, তরল, উষ্ণ ও বায়বীয় সম্বন্ধে জ্ঞান ও অশুচি ভাবনা।
চারি অরূপ- আকাশানান্তায়তন, বিজ্ঞানান্তয়াতন, অকিঞ্চানায়তন ও নৈবসংজ্ঞানাসংজ্ঞায়তন।
এরূপে চল্লিশ প্রকার শমথ ভাবনার চল্লিশটি কর্ম্মস্থান। চল্লিশটি কর্ম্মস্থানের মধ্যে চরিত ভেদে বিভিন্ন কর্ম্মস্থানের উপযোগিত বিদ্যমান। যেমন-
() রাগ চরিত পক্ষে- দশ অশুভ ও কায়গতানুস্মৃতি নামক কোষ্ঠাংশ ভাবনা।
() দ্বেষ চরিতের পক্ষে- নীলাদি চারিবর্ণ, কৃৎস্ন এবং চারি অপ্রমেয়।
() মোহ চরিত ও বিতর্ক চরিতের পক্ষে- আনাপান স্মৃতি।
() শ্রদ্ধা চরিতের পক্ষে- বুদ্ধানুস্মৃতি ইত্যাদি ছয় অনুস্মৃতি।
() বুদ্ধি চরিতের পক্ষে- মরনানু, উপশমানু, সংজ্ঞা, ব্যবস্থানাদি অনুকুল ভাবনা।
() মোহ চরিত ও ক্ষুদ্রাকার বিতর্ক চরিতের পক্ষে- কৃৎস্ন মন্ডলের নির্বাচনে পৃথুল (স্থুল) উপযোগী।
অবশিষ্ট কর্ম্মস্থান সকলের পক্ষে উপযোগী।
চল্লিশটি কর্ম্মস্থানে পরিকর্ম ভাবনা লাভ করা যায়। বৃদ্ধানুস্মৃতি, ধর্ম্মানুস্মৃতি, সংঘানুস্মৃতি, শীলানুস্মৃতি, ত্যাগানুস্মৃতি, দেবতানুস্মৃতি, উপশমানুস্মৃতি, মরনানুস্মৃতি, আহার অশুভ সংজ্ঞা এবং ধাতু ব্যবস্থান এই দশটি কর্মস্থানে উপাচার ভাবনা লাভ করা যায়। অবশিষ্ট ত্রিংশ কর্মস্থানে অর্পনা ভাবনা লাভ করা যায়।
আবার দশ অশুভ ও কায়গতানুস্মৃতি ভাবনা দ্বারা প্রথম ধ্যান লাভ হয়।
মৈত্রী, করুণা, মুদিতা ভাবনা দ্বারা চতুর্থ ধ্যান লাভ হয়।
দশ কৃৎস্ন, আনাপান ও উপেক্ষা ভাবনা দ্বারা পঞ্চম ধ্যান লাভ হয়।
চারি অরূপ ধ্যান ও দশ উপাচার ধ্যান ব্যতীত বাকী ছাব্বিশটি কর্মস্থান রূপলোকের ধ্যান উৎপন্ন করে। এ সমস্ত গুলি শমথ ধ্যানের লাভ, নিবৃত্তি বা নির্বাণের লাভ এতে নেই।
যদি কেহ শমথ ভাবনার মাধ্যমে শুরু করে নির্বাণ লাভ করতে চেষ্টা করেন তবে উপরোক্ত ত্রিংশ কর্মস্থানের যে কোন একটা কর্মস্থানে ভাবনার দ্বারা প্রথম থেকে পঞ্চম ধ্যানিক কর্মস্থানের কাজ সমাপনান্তে পুনরায় বিদর্শন ভাবনার নিমজ্জিত হও। ভাবনার দ্বারা হয়ত অরহত নয়তোবা অনাগামী লাভ হয়। যার নাম প্রতিসম্ভিদা মার্গ যা বর্তমানে লাভ সম্ভব নয়। প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান লাভ হয় বুদ্ধের পরিনির্বাণের পর এক হাজার (১০০০) বৎসর পর্যন্ত। বর্তমানে বুদ্ধের পরিনির্বাণ হয়েছে আড়াই হাজার (২৫০০) বৎসর অতীত হয়ে গেছে। সে হিসেবে বুদ্ধের নিয়মে তৃষ্ণা ক্ষয় করে মার্গফল লাভ করার যথেষ্ট সুযোগ বিদ্যমান।
ভগবান বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের পর প্রথম বারাণসীর নিকটবর্তী ঋষিপতন মৃগদাবে পঞ্চ বর্গীয় শিষ্য কৌন্ডিণ্য , বপ্প, ভদ্দিয়, মহানাম ও অশ্বজিতকে উপদেশ সহকারে দেশনার বলেছিলেন,হে ভিক্ষুগণ নির্বাণকামী ব্রতচারী দুই অন্তের অনুশীলন করবে না, প্রথম কাজে কম সুখোদ্রেকের প্রতি অনুরক্তি, যা হীন, গ্রাম্য, ইতর সাধারণের সেবা, অনার্য জনোচিত ও অনর্থকর, দ্বিতীয়/ আত্ম নিগ্রহে অনুরক্তি যা দুঃখ দায়ক, নিকৃষ্ট ও অনর্থকর। এ দুই অন্ত বর্জন করে তথাগত মধ্যম প্রতিপদ বা মধ্যমপন্থা, অভিসম্ভোদি জ্ঞান লাভ করেছেন যা চক্ষুকরনী ও জ্ঞান করনী এবং যা উপশমা অভিজ্ঞ, সম্ভোদি ও নির্বাণের অভিমুখে সংবর্তিত হয় আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গিই সে মধ্যম প্রতিপদ। যথা সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি।
এ দেশনার পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের মধ্যে কৌন্ডিণ্য ধর্ম চক্ষু লাভ করেন। অর্থাৎ মার্গফল লাভ করেন, জগতে প্রথম স্রোতাপন্ন মানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। সে দেশনায় আঠার কোটি দেব, ব্রহ্মা ধর্ম চক্ষু লাভ করেন। মার্গফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তাতে অন্য কিছুই প্রয়োজন হয়নি। এখনও এরকম মার্গফলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। আবার অন্তিম সময়ে অর্থাৎ বুদ্ধের পরিনির্বাণের সময় কুশীনগরে মল্লদের শালবনে পরিব্রাজক সুভদ্রকে বললেন, হে সুভদ্র! যে ধর্ম বিনয়ে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গেই উপলদ্ধি নেই (আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ নেই) প্রথম শ্রমণও তথায় নেই, দ্বিতীয় শ্রেণীর শ্রমণও তথায় নেই, তৃতীয় শ্রেণীর শ্রমণও তথায় নেই, চতুর্থ শ্রেণীর শ্রমণও তথায় নেই, এবং থাকতে পারেনা। সুভদ্র! যে ধর্ম বিনয়ে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের উপলদ্ধি আছে, (আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ আছে) প্রথম শ্রমণও তথায় আছে, তথায় দ্বিতীয় শ্রেণীর শ্রমণও আছে, তৃতীয় শ্রেণীর শ্রমণও আছে, চতুর্থ শ্রেণীর শ্রমণও আছে। হে সুভদ্র! ঊনত্রিশ বৎসর বয়সে আমি সর্বজ্ঞাতা জ্ঞান লাভ করার জন্য প্রব্রজিত হয়েছিলাম। যখন আমি প্রব্রজিত হই, সেদিন হতে এখন পর্যন্ত ৫১ বৎসর পর্যন্ত আমি আর্য মার্গ ধর্মের প্রদেশে বিদর্শন মার্গ প্রবর্তন করেছি। ইহার মধ্যে প্রথম শ্রমণ (স্রোতপন্ন) আছে, ‍দ্বিতীয় শ্রমণ (সকৃদাগামী) আছে, তৃতীয় শ্রমণ (অনাগামী) আছে এবং চতুর্থ শ্রমণ (অর্হৎ) আছে। ভগবান বুদ্ধের এ অন্তিম বাণীতেই আছে যে, ‍বিদর্শন মার্গ ছাড়া অন্য কোন মার্গ নেই মুক্তি লাভের জন্য। তাহলে আমরা কেন অন্য পথে যাওয়ার চেষ্টা করব? বুদ্ধত্ব লাভ করার পূর্বে সিদ্ধার্থ কৃচ্ছ সাধন, শমথ ভাবনা ইত্যাদি অনেক কিছু দেখেছেন ও আচরণ করেছেন। তা সবই ত্যাগ করে নির্বাণ লাভ করার পথ আবিস্কার করেছেন। প্রথম ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্রেও পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন একমাত্র আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথের নির্বাণ লাভ হবে। অন্য কোন বিকল্প পথ নেই। ইহা ছাড়া বুদ্ধের ধর্ম আচরণ করা, ধর্মে উন্নত হওয়া ও সাফল্য অর্জন করা- স্থান, কাল, পাত্রভেদে অকালিক।

রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭

is Buddhism is religion?

In a religion, the main characteristic is that
there is a Creator God. But in Buddhism there is
no Creator God. In that sense Buddhism is not a
religion. The devout followers of all religions in
the world believe that there is a substance (permanent
entity) called atman or soul. But in Buddhism
there is no permanent entity called soul.
In that sense too Buddhism is not a religion. On
the contrary, in religion there should be some
organized institutions like churches and temples
and there are also some mediators such as
reverend fathers, monks and nuns to conduct
pujas and prayers etc. On this ground we can say
that in Buddhism too there are such institutions,
monks and nuns.
Simply because there are institutions, monks,
nuns and some sort of performances and offerings
and some pujas for the worldly pleasure of
the followers, one cannot say that Buddhism is also a religion. As there are no
major characteristics of religion in Buddhism, it is not a religion. Some say that
it is a philosophy. But it is neither a sheer philosophy. Of course in Buddhism
too, there is epistemology, psychology, metaphysics, logic and ethics, which
consists in a philosophy. But I should say that it is neither a religion nor a philosophy.
But it is a way of life which could be applied in our daily life. To be
exact, this way is nothing but practising and developing one's mind through
meditation.............

শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৭

ধর্ম এবং বিজ্ঞান।


০১
লিখেছেন – বাবলু মুৎসুদ্দী

সব ধর্মই কার্য – কারনেই হয় অকারনে কোন কিছু হয় না এবং হওয়া সম্ভবও নয়। কার্য – কারনে মন বা ধর্ম উদয় হয় (Genesis) কিছুক্ষণ স্থায়ী হয়ে (Static development )আরেক চিত্ত (আগাম নতুন ধর্ম) উৎপন্ন হওয়ার কারন রেখে বিলীন (Desolution)হয়ে যায় । মন বা ধর্ম (চিত্ত) উৎপন্ন হয়ে বিলীন হতে যে সময় লাগে তাকে ০১ (এক) চিত্তক্ষণ (হাতে দুই আঙ্গুলে তুরি ফোঁটাতে সে সময়) বলে। আর ১৭ চিত্তক্ষণে ১ চিত্তবীথি (One Thought Process) হয় ।
বুদ্ধ বলেছেন প্রতিটি চিত্ত,(Psychic Life) ১৭ চিত্তক্ষণ বা এক চিত্তবীথি স্থায়ী বা ঠিকে থাকে। এবং নতুন কোন চিত্ত বা কর্ম সৃষ্টি করে বিলীন হয়ে যায় ।  বিজ্ঞানী আর্লবাট আনস্টাইন E=mc2 সূত্রানুসারে দেখতে পান পদার্থ শক্তিতে আর শক্তি পদার্থে রূপান্তুর হয় অতএব পদার্থ অভিনশ্বর ।
আর বিজ্ঞানী মহলে হিংসা বিদ্বেষের ছড়াছড়ি। সবাই তো আর আনস্টাইনের মত ভাবতে পারে নি ।   কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী Fred Holly পদার্থ , পরমাণু, শক্তি অভিনশ্বতার বিরোধিতা করে বলেন পদার্থ, পরমাণু, শক্তি নশ্বর, তিনি বলেন পরমাণু তার নিউক্লিয়াসের বহিঃস্থ ইলেকট্রন হারায় এবং তৎক্ষণাত বায়ু বা অন্য কোন পদার্থ হতে ইলেক্ট্রন গ্রহন করে তার হারানো ইলেক্ট্রন লাভ করে। পরমাণু নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে নতুন নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং নতুন পরমাণু সৃষ্টি হয় । এভাবে পদার্থের জীবন প্রক্রিয়া চলতে থাকে । এক সময় ইলেক্ট্রন ও নিউক্লিয়াস (প্রোটন ও নিউট্রন) দূর্বল থেকে দূর্বলতর হয়ে বন্ধন ক্ষমতা নষ্ট হলে পদার্থ ভেঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যায় ।
ব্যাপারটা অনেক হাস্যকর ।
একমাত্র বিজ্ঞানী আনস্টাইন মনে হয় (সঠিক কিনা জানি না) গৌতম বুদ্ধের (Good Teacher/ First Enlighten Man ) সাথে একমত হতে পেরেছেন ।
বুদ্ধ সেই সুপ্রাচীন কালে্ কী সুন্দর নিখুত ব্যাখা প্রদান করেছেন তা আমি ভেবে বার বার অবাক হই। বুদ্ধ বলছেন পদার্থের মধ্যে এমন গুন বা ধর্ম  আছে যার দ্বারা তাদের মধ্যে সম্মিলনের বা বন্ধন ক্ষমতার ফলে অন্য পদার্থ সৃষ্টি হয় যা আধুনিক রসায়ন স্বীকার করে । বুদ্ধ বলেছেন চারটি ভুত রূপই পদার্থ যেমন মাটি, পানি, বায়ু, তেজ যেমন - মাটির কঠিনতা ও কোমলতা স্বভাব, পানির নিবদ্ধ ও নিঃসরন স্বভাব, বায়ুর সংকোচন ও প্রসারণ স্বভাব, তেজের (তাপমাত্রা) ঠান্ডা এবং গরম স্বভাব অর্থাৎ ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রনে অনুতে অনুতে আনবিক বন্ধন ক্ষমতার মাধ্যমে পুঃণ পুঃণ নতুন শক্তিতে রূপান্তর হয়ে থাকে । আবার প্রত্যেকটি ভূত রূপের মধ্যে উক্ত চারটি গুনই থাকে । যেমন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়ে পানি তৈরি করে আবার পানিতেই উক্ত মৌলগুলোই পাওয়া যায় এবং সেই পানি নতুন কোন পদার্থেরে সাথে মিশ্রিত হলে যে ফলাফল পাওয়া যাবে সেখানে একই মৌল বিদ্যমান থাকবে ।
তার মানে, ক্ষয় নাই ওরে…. তোর ক্ষয় নাই।

- ভূলত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী

সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

বুদ্ধ দর্শন ও বিজ্ঞান!


নশ্বর সুজয়
(সংক্ষেপে)

মানুষ মাত্রই একটি কৌতুহলী প্রাণী। বস্তুত বিজ্ঞান বলে আমরা যা বুঝি তাও কৌতুহলের মাপকাঠিতে চলে। এই কৌতুহলের উপর নির্ভর হয়ে বিজ্ঞান অনেক অনেক অজানা বিষয়ের সমাধানে তৎপর। বর্তমানে এই যান্ত্রিকবিশ্বই তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এই বিজ্ঞান শুধুই মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয় গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তারচেয়েও বহুধাপ এগিয়ে। ঈশ্বর গড সৃষ্টি তত্ত্ব নিয়েও এদের বিরাম নাই। তারা পৃথিবীর রহস্যময় সৃষ্টি তত্ত্বে এমনটাই সিদ্ধান্তে উপনীত যে-তাদের দাবী সমগ্র মহাকাশের যাবতীয় বস্তু দাড়িয়ে আছে periodic নামক টেবিলের উপর। যা ১০২ টা মোল দ্বারা গঠিত। মহাবিশ্বের এমন কোন ক্ষুদ্র বা বৃহৎ বস্তুও অবশিষ্ট নেই যা এই মোল ছাড়া গঠিত নয় । গ্রহ, তাঁরা, মাটি, আকাশ, জল সব কিছু হতে এই মোলগুলোর বন্ধন লাগবেই লাগবে । এমনকি  আমাদের শরীরও এই দিয়ে তৈরি । যদি ঈশ্বরের কোন আকার থাকে বা ঈশ্বর যদি কোন রূপে থাকেন তাহলে এই মোলগুলো দিয়েই তাকে রূপ ধারণ করতে হবে । বিশ্বের প্রায় ধর্ম গ্রন্থেও লেখা আছে ঈশ্বর বিরাজমান সমস্ত জীব আর বস্তুর মধ্যে ।
তাহলে ঈশ্বর গড বলতে আমরা কি বুঝব ?  এই হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, লিথিয়াম, বেরিলিয়াম, বোরন, কার্বন ইত্যাদি হল গড ঈশ্বর ভগবানের অস্তিত্ব ? কিন্তু কিভাবে ?

বেশকিছু ধর্ম বা ধর্ম গ্রন্থের দাবী পৃথিবীর বাইরে সাতটা আকাশ আছে। যাকে ওরা বলে সাত আসমান।
কিন্তু বিজ্ঞানের দাবী ভিন্ন। বিজ্ঞান বলে পৃথিবীর বাহিরেও অসংখ্য আকাশ রয়েছে। পৃথিবী থেকে কোটি গুনে বৃহৎ গ্রহ, নক্ষত্র রয়েছে। এবং এদের সংখ্যাও কোটি কোটি । অগণিত , ধারনার বাইরে।
উইকিপিডিয়া সুত্র বলছে- সারা মহাবিশ্বের টোটাল শক্তির মধ্যে মহাবিশ্বের প্রায় ৫০ হাজার গ্যালাক্সি এর সমস্ত তারা , গ্রহ এবং প্রাণীকুল মাত্র ৫% শক্তি দ্বারা গঠিত । বাকি শক্তির ৬৮% এখনও উন্মুক্তই হয়নি , যাকে বিজ্ঞানে বলছে dark energy । আর বাকি dark matter ( ২৭%)  হল এই অন্ধকারের উৎস ।

তথ্যটি সম্পূর্ণ নয় কিন্তু বিষয় হল পুরো শক্তির নগণ্য শতাংশ শক্তি দিয়ে তৈরি এই পৃথিবীর মধ্যে আমরা বিভিন্ন বিভিন্ন শক্তির যে উপাসনা করি তার মুল শক্তি কি অন্য ? যেমন ধরুন ভগবানগুলো হিন্দুদের দায়িত্ব নিয়ে আছে , আল্লা মুসলিমদের , গড খ্রিস্টানদের, এরকম আরও আছে এদের কন্ট্রোল করে তবে কে ?  যদি এটা মিথ্যে হয় তবে সত্যটা কি ? সব ধর্মের দাবী তারাই সত্য তবে বাকিরা মিথ্যে প্রমাণিত হয় না কেন ?
১০২ টা মোলের জন্ম নেই মৃত্যু নেই । আছে শুধু সংযুক্তিকরণ আর বিচ্ছেদ । পৃথিবীর শুরু সেই মোলের সংযুক্তি ছিল আর কেয়ামত বা প্রলয় হবে সেই মোলগুলোর বিচ্ছুরণ । আবার তারা অন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়া করে অন্য পৃথিবী বানাবে তবে তিন দিন কি সাত দিনে কিনা জানি না । তবে এই মোলগুলোর সৃষ্টিকর্তা কে তা জানতে না পারা অব্দি মোলগুলোকেই ঈশ্বর মানা যুক্তিপূর্ণ নয় কি ? বিভিন্ন ঈশ্বরের নামে লড়ার চেয়ে ঈশ্বর নিজের মধ্যে আছে মনে করা বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি ? ধর্মকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে মিথ্যা বেলুন না বানিয়ে নিজের আত্মার মধ্যে আত্মস্থ করা প্রকৃত ধার্মিকের কাজ নয় কি ?

পরিশেষে একটি কথা বলি- আপনি যদি সতি্যই সতি্যই প্রকৃত বুদ্ধ দর্শন বিষয়ে ধারণা রাখেন তাহলে এতোক্ষণ যা যা আলোচনা করলাম তার পুরোটাই মিলিয়ে নিতে পারবেন এ বুদ্ধদর্শনে।

কারণ বৌদ্ধ দর্শনে ঈশ্বরকে স্বীকার করে না। তারা জানে এই পৃথিবীর সবকিছু আমি তুমি পশুপক্ষী লতাগুম্ম সবই প্রকৃতির সৃজন মাত্র।

সুত্তপিটকের রতনসুত্তে উল্লেখ্ আছে শতসহস্র কোটি চক্রবালের কথা। সেখানেও অশরীরী প্রাণের অস্তিত্বের কথাও বুদ্ধ স্বীকার করেছিলেন।
এছাড়াও মজ্ঝিমনিকায়-১/৪/৮) উল্লেখ্ আছে-
অস্মিন্ সতি ইদং ভবতি’-
অর্থাৎ : ‘এটি ঘটবার পর ওটি ঘটছে’।
( প্রতিত্যসমুদ্পাদ  )

প্রত্যেক ধর্মের উৎপত্তির পেছনে নানা হেতুর সমাবেশ রয়েছে, অর্থাৎ প্রত্যেক ধর্মই অন্যান্য ধর্ম সংযোগে উৎপন্ন হয়। সেকারণেই পরবর্তীকালে বৌদ্ধধর্মের মূলমন্ত্রভাবে গৃহীত একটি সংস্কৃত শ্লোকে বলা হয়েছে-  ‘যে ধর্মা হেতুপ্রভবা হেতুন্তেষাং তথাগতঃ।
ঘ্যবদত্তেষাঞ্চ যো নিরোধ এবংবাদী মহাশ্রমণঃ।।’ ইতি।
অর্থাৎ : ধর্মসমূহ হচ্ছে হেতুপ্রভব। তথাগত বা বুদ্ধ তাদের হেতু ও নিরোধোপায় নির্দেশ করেছেন।

এছাড়াও বিজ্ঞানের মোল বিষয়টিকে আপনি বুদ্ধদর্শনের সৃষ্টিতত্ত্বের এই নীতি সাহায্যে মিলিয়ে নিতে পারবেন- সেই
স্বয়ংক্রিয় নীতি সমূহ কি? যেগুলোর
দ্বারা আমাদের সৃষ্টি হয়, পরিচালন হয়, ধ্বংস হয়? এগুলো হচ্ছে-
ক. ঋতু নিয়ম
খ. চিত্ত নিয়ম
গ. বীজ নিয়ম
ঘ. কর্ম নিয়ম এবং
ঙ. ধর্ম নিয়ম

এই পঞ্চনিয়ম একটি অপরটির উপর
নির্ভর করে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড নিয়তঃ
তৈরি করছে, পরিচালন করছে, ধ্বংস
করছে। যদিও বৌদ্ধ ধর্মে ঈশ্বর বলতে
কিছুই নাই তথাপি যদি সৃষ্টিকারী,
ধ্বংসকারী এবং পরিচালনকারী কোন
কিছুকে ধরে নেওয়া হয় তবে বৌদ্ধ
ধর্মে এই পঞ্চনিয়মই হচ্ছে তা।

রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৭

বৌদ্ধ সৃস্টকর্তা।


--প্রথমে বুঝতে হবে ঈশ্বর কি। কারন অন্য ধর্ম গুলোতে ঈশ্বরকে ব্যাক্তি (Person) হিসেবে নেওয়া হয় আর ঈশ্বর এর অর্থ ওদের কাছে ; Generator (সৃষ্টিকারী), Operator (পরিচালনাকারী) and Destructor (ধ্বংসকারী) সংক্ষেপে GOD। যা একটা being বা person। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মে Generator operator and Destructor হচ্ছে পাঁচটা Universal Rules বা Cosmic order যার দ্বারা এই universe পরিচালিত হয় আর এ ক্ষেত্রে এটি কোন ব্যাক্তি বা সত্ত্বা নয়। আর বুদ্ধ Hindu and other religion এর God এর explanation দীর্ঘ নিকায় এর কেবট্ট সূত্রতে বর্ণনা করেছেন। যেটি পড়লে জানা যায়- হিন্দুদের ঈশ্বরের (God) অস্থিত্ব বৌদ্ধ ধর্মে রয়েছে। ঐ সূত্রতে বুদ্ধ বলেছেন-Hindu and other Religion এ যাকে ঈশ্বর হিসেবে মান্য করা হয় তিনি স্বর্গ সমূহের উপরের একটি স্পেসে অবস্থান করেন। তাদের God হল বুদ্ধের ভাষায়- “মহাব্রম্মা”। যদিও ওনি খুব Supernormal power এর অধিকারি কিন্তু ওনি Generator, operator and destructor না....। অর্থাৎ জগতের সৃষ্টি, পরিচালন এবং ধ্বংস এই ত্রিকাজ তিনি করতে পারেন না। কিন্তু হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মালম্বীরা ভাবেন তিনিই এই কাজ ত্রয় করেন। তাই বৌদ্ধ ধর্মে, মহাব্রহ্মা (যাকে অন্য ধর্মসমূহে ঈশ্বর হিসেবে গন্য করা হয়) GOD নন। যেহেতু তিনি ঐ ত্রিকাজ করতে পারেন না। বৌদ্ধ ধর্ম বলছে সৃষ্টি, পরিচালন এবং ধ্বংস এই ত্রিকাজ কোন ব্যাক্তি করেন না। এগুলো স্বয়ংক্রিয় একটি ‘নির্ভরশীলতা বা আপেক্ষিক’ একটি পদ্ধতির মা্ধ্যমে হয়ে থাকে। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্বতিকে আমরা ‘বিশ্বজনীন নীতি’ বা ‘Cosmological Laws’ বলতে পারি। কারো যদি সৃষ্টিকর্তা, ধ্বংসকর্তা, পরিচালনকর্তা রূপে কাউকে বসানো একান্ত প্রয়োজন হয় ধর্মে তাহলে এই নীতিগুলো বসান। বুদ্ধের এই নীতি সমূহ এত সুগভীর যে কোন ব্যাক্তি ঈশ্বর (যেমন: মহাব্রহ্মা) যদি সতি্যই থাকেন দেখা যাবে তিনি নিজেও এই নীতি সমূহে আটকা যদিও তিনি হয়তো অনেক উর্দ্ধতন সত্ত্বা। এবার আসা যাক, সেই স্বয়ংক্রিয় নীতি সমূহ কি? কি? যেগুলোর দ্বারা আমাদের সৃষ্টি হয়, পরিচালন হয়, ধ্বংস হয়? এগুলো হচ্ছে-
ক. ঋতু নিয়ম (Rules of Physics or matter)
খ. চিত্ত নিয়ম (Rules of Mind or citta)
গ. বীজ নিয়ম (Rules of Germinal order)
ঘ. কর্ম নিয়ম (Rules of Karma ) এবং
ঙ. ধর্ম নিয়ম ( Rules of Dharma)।
এই পঞ্চনিয়ম একটি অপরটির উপর নির্ভর করে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড নিয়তঃ তৈরি করছে, পরিচালন করছে, ধ্বংস করছে। যদিও বৌদ্ধ ধর্মে ঈশ্বর বলতে কিছুই নাই তথাপি যদি সৃষ্টিকারী, ধ্বংসকারী এবং পরিচালনকারী কোন কিছুকে আমরা ধরে নেই তবে বৌদ্ধ ধর্মে এই পঞ্চনিয়মই হচ্ছে তা। Personal God (God as Being) বুদ্ধ এই জন্য স্বীকার করেন নাই কারন ওনি যদি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বা universe কে create করেন তার একটা উদ্দেশ্য থাকবে। উদ্দেশ্য থাকলে তার একটা তৃষ্ণা থাকবে। তৃষ্ণা থাকলে ওনি নিজেও মুক্ত নন..। আর যেখানে বুদ্ধ মুক্ত পুরুষ সেখানে Creator যদি মুক্ত না হন তবে তা যে সম্পূর্ণ ভুল একটা concept তার প্রমান দেয়।
এখন আরেকটি প্রশ্ন উঠতে পারে তা হলো কে এই বিশ্বজনীন নীতিকে পরিচালন করে? বা কিভাবে এই নীতি সমূহ পরিচালিত হয়? এই প্রশ্নসমূহের উত্তর বৌদ্ধ ধর্মে দিচ্ছে দুটি আলাদা তত্ত্ব দিয়ে। যথা:
১. প্রতীত্য সমুৎপাদ বা নির্ভরশীলতা তত্ত্ব (Depended origination)এবং
২. পট্ঠান (Conditional Relations)।
এগুলো ব্যতীত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি, পরিচালন এবং ধ্বংস হয় না। এখানে একটা আরেকটার সাথে যুক্ত। অনেক বুদ্ধধর্মলম্বীরা মনে করেন সব কর্মের কারণে হয়। সব কর্মফল। এটা সঠিক নয়। সব কর্মের কারণ না। বাকি নিয়মসমূহ ছাড়া কর্মফল একা কিছু করতে পাবে না। যেমন রুপ আমাদের body and এই earth, galaxy (যার origin physical element থেকে) এইগুলো যদি উৎপন্ন নাই হয় আমরা কর্মফল ভোগ করবো কিভাবে? “শূণ্য কল্প” ' যার অর্থ স্বরূপ বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে- 'gap between the begin and end of the universe' এই সময়ে কি কর্মফল ভোগ করবে? তার উত্তর হলো না...। কারণ লোক বা জগৎ (রূপ) ছাড়া কর্মফল ভোগ করা যাবে না। আবার রূপ থাকলেও যদি চিত্ত না থাকে তবে এই ক্ষেত্রেও কর্মফল কাজ দিবে না। চিত্ত ছাড়া সত্ত্বগণ রোবট তুল্য। কারণ যদি চিত্ত না থাকে অনুভব করবে কে? কর্মফল যে পাচ্ছে তা বুঝবে কে? কেউ যদি তবুও প্রশ্ন করেন তাহলে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড
ে কিভাবে সৃষ্টি, চালন এবং ধ্বংস হয় যদি ব্যাক্তিরূপ কোন ঈশ্বর না থাকেন। তাহলে শেষবারের উত্তর হচ্ছে- প্রধান পাঁচটি, সহকারী ২টি এবং অন্যান্য কিছু নির্ভরশীল তত্ত্বের মাধ্যমেই ঐ কাজ ত্রয় বৌদ্ধ ধর্মে GOD এর কাজ করে থাকে তাদের নিজস্ব স্বভাবের মধ্য দিয়ে। আশাকরি আপনারা বুঝেছেন।

লাভ জিহাদ।

What is the meaning of love jihad?
Love Jihad is the term given to the alleged conversion of non-Muslim women to Islam by Muslim boys and men under the pretense of love.
#লাভ জিহাদ কি ?

#লাভ জিহাদ হচ্ছে বৌদ্ধ মেয়ে হয়ে অন্য অবৌদ্ধ ছেলের সাথে প্রেম করা , অথবা বৌদ্ধ ছেলে হয়ে অন্য অবৌদ্ধ মেয়ের সাথে প্রেম করা , শেষে প্রেম করে নিজের ধর্ম পরিত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হওয়াকে লাভ জিহাদ বলে।

#লাভ জিহাদ এবং বৌদ্ধ বোনদের জন্য সতর্কবার্তাঃ

#অতি স¤প্রতি সিলেটের একটি ঘটনা দেশের ছোট বড় প্রায় সবকটি পত্র পত্রিকায় নিউজ হিসেবে ছাপিয়েছে। নিউজটি হল একজন সিলেটের ডাক্তার তার স্ত্রীকে তালাবদ্ধ অবস্থায় বন্দি করে হজ পালন করতে সৌদি আরব গেছেন।
বলা বাহুল্য, তালাবদ্ধ অবস্থায় বন্দিনী স্ত্রীলোকটি এককালে হিন্দু ছিলেন এবং তিনিও পেশায় ডাক্তার। লাভ জিহাদীদের খপ্পরে পড়ে নিজ পিতৃ ধর্ম পরিত্যাগ ও ভালবাসার টানে অতি আশা করে মুসলিম ডাক্তারের ঘরণী হয়েছে, আর এর চরম মূল্য কি করে দিচ্ছেন, তা আমরা সকলে পত্র পত্রিকা খুললেই দেখা যায়।

#এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি বহু পুরাতন ও ধারাবাহিক ঘটনার একটি মাত্র। প্রায় প্রত্যেকটি ধর্মান্তরিত বিয়ের পর ধর্মান্তরিত মেয়েদের ক্ষেত্রে এমনই হয়। কারণ মূল কারণ হলো যে ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়েটা করলেন, ঐ ধর্ম দর্শনে একজন পূরুষের ৪ এর অনধিক বিয়ে করার অধিকার এবং ভাল না লাগলে দেন মোহরের টাকা দিয়ে বিদেয় করার বিধান সংরক্ষিত করা আছে। বৌদ্ধ মেয়েদের ধর্মান্তরিত হয়ে বিবাহ ও পরবর্তী পরিনতি হল স্বামীহারা হয়ে আবার অন্যে ব্যাক্তিকে স্বামী হিসেবে গ্রহন করা, নয়তো অন্যের বাড়ীতে ঝিগিরী করা, নয়তো শেষে পতিতালয়ে গমন করে যৌনদাসী হওয়া।

#কিন্তু এই মেয়েটি বুদ্ধের ছায়াতলে স্বাধীন মুক্তপাখি ছিল।

#এইভাবে ফাঁদে ফেলে জিহাদিরা মেয়েটাকে প্রথমে নাস্তিক বানায় তারপর বিয়ে করবে তারপর ধর্মান্তরিত করে তারপর ওদের কাজ শেষ । গাছের ফুল ঘ্রাণ নেওয়ার পর ওটাকে ফেলে দেওয়া ছাড়া কোন কাজ থাকে না।

#জিহাদের জন্ম সূরা নিসা আয়াত ৩ - #তোমরা মহিলাদের মধ্যে থেকে তোমাদের পছন্দনুযায়ী দুই-দুই , তিন- তিন , চার- চার জনকে বিয়ে করে নাও।

#তাহলে শিকারের ফাঁদ পাততে অসুবিধা কোথায় ?

জিহাদিরা মালাউন মহিলাদের উপর কু-নজর বেশি কারণ - সূরা নিসা আয়াত -২৪ #বিবাহিত পরস্ত্রী তোমাদের কাছে নিষিদ্ধ যে সব বিবাহিত অমুসলিমদের তোমরা জিহাদে ধরে এনেছো তারা তোমাদের জন্য বৈধ । গণিমতের মাল হিসাবে তাদের ভোগ করা যায়।

#বৌদ্ধধর্মের অনেক নারীরা মৌলবাদিদের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন সাবধান হয়ে যান ।

#মডেল তারকা শ্রাবস্তি দত্ত তিন্নি - ভালোবেসে বিয়ে করেছিল আরেক মডেল হিল্লোলকে দেড় বছর সংসার করেছেন একটা মেয়ে সন্তানও হয়েছে পরে বাইন তালাক। তারপর তিন্নির ঠিকানা হয়েছে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এখন মায়ের বাসায় থাকেন কিন্তু সুস্হ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি ।
#এখন সম্প্রতি অপু বিশ্বাস সবকিছু ছেড়ে এসেও কিভাবে হেনস্হার স্বীকার হচ্ছে তা করো অজানা নয়।

#এখন এইসব জিহাদি আরেক নামিদামী মডেলকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে , সংসার করে । কিছু দিন পর হয়তো নতুন কাউকে ধরবে। যেমন , বেশ্যালয়ের একেক দিন একেক ঘরে গমন করে খরিদ্দার।

#দৈনিক কালের কন্ঠ প্রকাশিত ২৪ সেপ্টম্বর ২০১৩ ধামরাইয়ে শ্বশুর বাড়িতে নির্যাতিত হয়ে উলঙ্গ অবস্হায় অন্য বাড়িতে আশ্রয় নেয় ধর্মান্তরিত হিন্দু মেয়ে সাগরিকা সূত্রধর । সে এখন তালাক প্রাপ্ত । হয়তো এখন কোন আবাসিক হোটেলে প্রতিতা বৃত্তিতে আছেন।

#যারা ভিক্ষা, ঝিগিরী বা পতিতালয়ে যেতে পারে নি এমন অনেক মেয়ে আছে যারা লাভ জিহাদের স্বীকার হয়ে , পারছে না মরতে পারছে না জন্ম দেওয়া মা বাবার কাছে মুখ দেখাতে । রাতে চোখের জ্বলে বালিশ ভিজালেও দেখার কেউ নাই ।

#এইসব দিদিদের জানা উচিত ভালোবেসে ঘর করা যায় তবে মা বাবার আশীর্বাদ ছাড়া অল্পদিনও সুখে শান্তিতে ঘর করতে পারে না ।

#তাই লাভ জিহাদিদের সাথে প্রেম করার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজে সতর্ক হোন অন্যকে সতর্ক করুন।

#ত্রিপিটকের  জ্ঞান যার মধ্যে আছে বা মা-বার কাছ থেকে জেনেছেন তারা কখনও লাভ জিহাদের খপ্পরে পরে না বরং তাদের দিকে থুঃ থুঃ ছুড়ে মারেন।

সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হোক হে ভাই ভগ্নি।

বৌদ্ধ দর্শনে যুক্তি।


ড: নীরুকুমার চাকমা [ অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ]
বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তা-ধারনা ও বিশ্বাসের পরিবর্তন ঘটেছে অনেক। বিজ্ঞানের সিদ্ধান্তগুলো অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রমাণ সাপেক্ষ; এবং এ কারণে অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে সত্য বলে অপ্রমাণিত কোন কিছুকেই আধুনিক মানুষ সহজে জানতে বা গ্রহণ করতে নারাজ। শিক্ষিত সমাজের কাছে তাই ধর্মের আবেদন নগণ্য। ধর্মীয় মতবাদকে সাধারনত মনে করা হয় অবৈজ্ঞানিক, অন্ধবিশ্বাসভিত্তিক অযৌক্তিক। অন্যান্য ধর্মের উপর এ অভিযোগ চাপানো গেলেও বুদ্ধ ধর্মের উপর চাপানো কিন্তু যুক্তি-সজ্ঞত বলে মনে হয় না। খ্রিষ্ট জম্মের সেই ষষ্ট শতাব্দিতে উৎপত্তি হলেও বুদ্ধধর্ম আসলে একটি আধুনিক ধর্ম, বৈজ্ঞানিক ধর্ম, যুক্তির ধর্ম। বুদ্ধের সুমহান উপদেশ, বানী ও চিন্তাধারাই বুদ্ধদর্শনের উৎস ও ভিত্তি। অন্য কথায়, বুদ্ধের ধর্মই আসলে বুদ্ধ দর্শন। বুদ্ধ দর্শনের প্রধান বৈশিষ্টই হচ্ছে স্বাধীন চিন্তা। স্বাধীন চিন্তার এ গতিধারা যুগে যুগে বিকশিত হয়েছে বিচিত্র ভঙ্গিমায়। ধর্মের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস এ দর্শনকে কলুষিত করতে পারেনি কোনদিন। অতিজাগতিক বা অতীন্দ্রিয় ব্রহ্ম বা ইশ্বরের অন্ধবিশ্বাস এ দর্শনে থাঁই পাইনি কনোদিন।যুক্তির স্বচ্ছতা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এ দর্শনের প্রাণ।
হিন্দু ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম, ও ইসলামধর্মের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস, কিন্তু বুদ্ধ ধর্মের ভিত্তি হচ্ছে যুক্তি। বুদ্ধের বানী ও উপদেশকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করলে বা নির্বিচারে গ্রহণ করলে বুদ্ধ ধর্মকে বুঝা যাবে না। একমাত্র যুক্তির মাধ্যমে বুদ্ধ ধর্মকে জানা বা বুঝা সম্ভব। বুদ্ধ যীশু খ্রিষ্টের মতো ঈশ্বরের সন্তান নন, শ্রীকৃষ্ণের মতো ভগবান নন, হযরত মুহম্মদের (দঃ) মতো পয়গম্বরও নন। রাজপুত্র হলেও তিনি ছিলেন আমাদের মতই রক্ত মাংসের মানুষ যিনি নিজের সাধনাবলে বুদ্ধত্ব লাভ করে ইতিহাসে মহামানব বলে পরিচিত হবার গৌ্রব অর্জন করেন। অন্যান্য ধর্ম প্রচারকরা যেখানে নিজেদের বানীগুলোকেই এক মাত্র পরম সত্য বলে দাবী করেন এবং এগুলোকেই অন্ধভাবে ও নির্বিচারে গ্রহণ করার জন্যে আহ্বান জানান, বুদ্ধ সেখানে তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমি যা বলছি তা তোমরা নির্বিচারে মেনে নিওনা, আমার কথাকে তোমরা নিজেরা পরিক্ষা করে দেখ।’ এত বড় কথা যুক্তিবাদী ছাড়া আর কে বলতে পারে?
এ জীবন ও জগতকে বুদ্ধ বস্তুবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে উপলদ্ধি করেছেন, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দ্বারা বিচার করেছেন, যুক্তি দিয়ে বুঝাবার চেষ্টা করেছে। অন্যান্য ধর্ম যেখানে বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিয়েছে, বুদ্ধ ধর্ম সেখানে প্রাধান্য দিয়েছে বুদ্ধিকে, যুক্তিকে এবং এ জীবন ও জগতের সব জিনিসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করেছেন। বুদ্ধের মতে জগতের প্রত্যেক্তি জিনিস কার্যকারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ। কোন বস্তুই স্বয়ং উৎপন্ন হইনা একটি ঘটনা অন্য একটি ঘটনা থেকে সঞ্জাত। সবকিছুই উৎপত্তি হয় ঘটনা থেকে। বুদ্ধ দর্শনে এ তত্ত্বকে বলা হয় ‘প্রতীত্যসমুৎপাদ’। এ তত্ত্বানুসারে আমাদের জীবন দুঃখময় , এ দুঃখের কারণ আছে, এ দঃখ থেকে মুক্তিও পাওয়া যায়। জীবন যে দুঃখময় তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বুদ্ধ নিত্য, অপরিবর্তনশীল, চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর বলে কোন জিনিজের অস্তিত্বকে স্বীকার করেন না। তাঁর মতে জগতের সবকিছু পরিবর্তনশীল, সারা বিশ্বে চলেছে বস্তুর বিরামহীন পরিবর্তন ও রূপান্তর। আমাদের জীবন হচ্ছে এক অবিরাম প্রবাহ-আবির্ভাব ও তিরোভাব এক অন্তহীন স্রোত, এ জগতে শাশ্বত সত্তা বলতে কোন জিনিস নেই।বুদ্ধ দর্শনের এ বৈজ্ঞানিকমত পরবর্তীকালে মার্ক্স ও এঙ্গলকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। অধিবিদ্যায় বা শুদ্ধ তত্ত্ব জিজ্ঞাসায় বুদ্ধ কোনদিন আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর দর্শন ছিল সম্পূর্ণভাবে জীবন মুখী। জীবন সমস্যা সমাধানে যে জিনিস কোন প্রয়োজনে আসে না, বুদ্ধ সে জিনিসকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেছেন. বুদ্ধের মতে, জগত কি নিত্য না অনিত্য, সসীম না অসীম, ঈশ্বর আছে কি নেই এ ধরণের তত্ত্ব বিচারে আত্ত্বনিয়োগ করা অর্থহীন এবং সময়ের অপচয় মাত্র, কারণ এতে দুঃখের নিবৃত্তি হয় না, জিবনের লক্ষ্য অর্জিত হয় না। বুদ্ধ দর্শনের বৈশিষ্ট্য তাই শুদ্ধ তত্ত্ব বিচার নয়,দুঃখ থেকে মুক্তিলাভের চেস্তা করা। এ মুক্তির প্রশ্নে বুদ্ধ ধর্ম যে মত পোষণ করে তা নিঃসন্দেহে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিবাদী.

ফ্যাসিবাদ।

 ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ হচ্ছে একটা চরমপন্থী, জাতীয়তাবাদী, কর্তৃত্বপরায়ন রাজনৈতিক মতাদর্শ। এই দর্শন সবকিছুকেই রাষ্ট্রের নামে নিজেদের অধীন বলে...